দশানন রাবণ—অপরিসীম জ্ঞান, তপস্যা ও শক্তির অধিকারী এক মহাপরাক্রান্ত সম্রাট। কিন্তু একটি প্রশ্ন বহুদিন ধরেই মানুষের মনে ঘোরে—দশভূজা মা কি তাকে আশীর্বাদ দিয়েছিলেন, নাকি অভিশাপ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের যেতে হবে ধর্ম, তপস্যা ও কর্মফলের গভীরে।
রাবণ ছিলেন পরম শিবভক্ত, আবার দেবী শক্তির প্রতিও তাঁর গভীর আরাধনা ছিল। বলা হয়, তিনি কঠোর তপস্যা করে দেবতাদের সন্তুষ্ট করেছিলেন। তাঁর এই ভক্তি ও সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবতারা, এমনকি দুর্গা—দশভূজা মা—তাকেও শক্তি ও বর প্রদান করেছিলেন।
কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—দেবতারা কখনো অন্যায়ের পক্ষে আশীর্বাদ দেন না। তারা ভক্তির প্রতিদান দেন, কিন্তু সেই শক্তি কিভাবে ব্যবহার হবে, তা নির্ভর করে মানুষের নিজের উপর। রাবণ তার তপস্যার ফলে অসীম শক্তি পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই শক্তিকে তিনি ধীরে ধীরে অহংকার ও অন্যায়ের পথে ব্যবহার করতে শুরু করেন।
দশভূজা মা শক্তির প্রতীক—তিনি সৃষ্টির, সংহারের ও ন্যায়ের ধারক। তিনি কখনোই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না। তাই বলা যায়, মা দুর্গা রাবণকে যে শক্তি দিয়েছিলেন, তা ছিল আশীর্বাদ; কিন্তু রাবণের নিজের কর্মই সেই আশীর্বাদকে অভিশাপে পরিণত করেছিল।
রাবণের জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল অহংকার। তিনি নিজেকে অজেয় মনে করতে শুরু করেন। অন্যের অধিকার, ন্যায়-অন্যায়ের সীমা ভুলে গিয়ে তিনি সীতাকে অপহরণ করেন। এই একটি কাজই তাঁর পতনের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যখন কেউ শক্তি পায়, তখন তার সাথে দায়িত্বও আসে। কিন্তু রাবণ সেই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন। তিনি ভাবলেন, তাঁর প্রাপ্ত বর তাঁকে সবকিছু করতে স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, সেই বরই তাঁর পরীক্ষার মাধ্যম ছিল।
দেবী দুর্গা কখনো সরাসরি অভিশাপ দেননি। বরং তিনি ন্যায়ের ভারসাম্য রক্ষা করেন। যখন রাবণ সীমা অতিক্রম করেন, তখন ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য রাম আবির্ভূত হন। এই যুদ্ধ শুধু দুই ব্যক্তির নয়, এটি ছিল ন্যায় ও অন্যায়ের সংঘর্ষ।
রাবণের পতন আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়—ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেলেই সফলতা নিশ্চিত নয়। সেই আশীর্বাদকে সঠিক পথে ব্যবহার করাই প্রকৃত পরীক্ষা। যদি কেউ সেই শক্তিকে অহংকার, লোভ ও অন্যায়ে ব্যবহার করে, তবে সেটাই তার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দশভূজা মা আমাদের শেখান—শক্তি মানেই দায়িত্ব। শক্তি মানেই ন্যায়ের পথে থাকা। তিনি যেমন আশীর্বাদ দিতে পারেন, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানও নেন। তাই তাঁর শক্তি কখনো অভিশাপ নয়; মানুষের ভুল ব্যবহারই তাকে অভিশাপে রূপ দেয়।
আজকের জীবনে এই কাহিনির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা অনেক সময় সফলতা পেলে নিজেকে বড় ভাবতে শুরু করি, অন্যকে ছোট করি, অন্যায়কে স্বাভাবিক মনে করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে—প্রতিটি কর্মের ফল আছে। আজ না হোক, কাল সেই ফল আমাদের ভোগ করতেই হবে।
রাবণের মতো জ্ঞানী ও শক্তিশালী মানুষও নিজের ভুলের কারণে পতিত হয়েছিলেন। তাই আমাদের উচিত অহংকার ত্যাগ করে, ন্যায় ও সততার পথে চলা। তবেই দেবীর প্রকৃত কৃপা লাভ করা সম্ভব।
শেষ কথা—দশভূজা মা কখনো কাউকে অভিশাপ দেন না। তিনি শুধু শক্তি দেন, পথ দেখান। সেই পথে চলা বা না চলা—সেটাই মানুষের নিজের সিদ্ধান্ত। আর সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে তার ভবিষ্যৎ।
মহাদেব কে অর্পণ করলে
কি ফল লাভ হয়??
বেল পাতা - ইচ্ছা পূরণ হয়।
অপরাজিতা ফুল - সমস্ত গ্ৰহদোষ কাটে।
আকুন্দ ফুল - খ্যাতি অর্জন হয়।
ধূতরা ফুল-কর্ম প্রাপ্তি হয়।
গঙ্গাজল পাপ ধ্বংস হয়।
দুধ - স্বাস্থ্য উন্নতি হয়।
চন্দন - সম্মান ও খ্যাতি বৃদ্ধি পায়।
মধু - মন পবিত্র হয় ও মানসিক শান্তি পায়।
দই - বাধা-বিপত্তি দূর হয়।
ঘি - সন্তান লাভ হয় ও শক্তি বৃদ্ধি পায়।
আতব- অর্থ কষ্ট দূর হয়।
চিনি - গৌরব অর্জন হয়।
টোটকা:
১) খুব বেশি পরিমাণে টাকা খরচ হচ্ছে? আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হচ্ছে? সে ক্ষেত্রে ২১টা শুকনো লঙ্কার বীজ একটা কাগজে মুড়ে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় বালিশের নীচে রেখে দিন। কিছু দিন এই কাজটা করলেই পরিবর্তন বুঝতে পারবেন।
২) বাস্তুদোষ কাটাতে প্রতি সপ্তাহে দু’-তিন দিন সন্ধ্যাবেলা শুকনো লঙ্কা পোড়ান। পোড়ানোর পর ছাইটা বাড়ির বাইরে ফেলে দিন। নেগেটিভ শক্তির পরিমাণ কমে যাবে।
৩) যদি খুবই শত্রুভয় থাকে, সে ক্ষেত্রে সাতটা শুকনো লঙ্কা ঘরের এক কোণে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখুন। শত্রুদের নাম জানা থাকলে লঙ্কাগুলো বাঁধার সময় তাঁদের নাম বলতে হবে।
৪) যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরোনোর আগে পাঁচটা শুকনো লঙ্কা দরজার সামনে রেখে, সেগুলির উপর পা দিয়ে বেরোলে খুব ভাল হয়। কাজে সফল হওয়া যায়।
৫) বাড়িতে যদি কেউ দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ থাকেন, তা হলে তাঁর বালিশের নীচে পাঁচটা শুকনো লঙ্কা রেখে দিন। এতে কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন।
৬) যদি বাড়িতে কারও উপর নজরদোষ থাকে, তা হলে তাঁর মাথার উপর পাঁচটা শুকনো লঙ্কা সাত বার ঘুরিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে ফেলুন। নজরদোষ থেকে মুক্তি মিলবে।
৭) সম্পত্তি বৃদ্ধি করতে কোনও দরিদ্র ব্যক্তিকে আটা এবং শুকনো লঙ্কা একসঙ্গে দান করুন।
৮) পেশাগত ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য ২১টা লঙ্কার বীজ একটা পাত্রে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে মাথার উপর সাত বার ঘুরিয়ে বাইরে ফেলে দিন।
৯) বাড়ির সদর দরজার মাথায় তিনটে লেবু এবং সাতটা শুকনো লঙ্কা বেঁধে ঝুলিয়ে দিন। বাড়িতে কোনও অশুভ শক্তি প্রবেশ করতে পারবে না।
১০) যে কোনও বাধা থেকে মুক্তি পেতে একটা হলুদ কাপড়ে সাতটা শুকনো লঙ্কা বেঁধে নিজের সঙ্গে রাখুন।
রবি, কেতু ,বুধ মকর রাশি থেকে অষ্টমে এরা শুক্রের নক্ষত্রে, সেই শুক্র জলরাশিতে, ১৪ ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইঙ্গিত। বিদ্যুৎ ব্রিজ বিভ্রাট, সড়ক যোগ বিচ্ছিন্ন
কুমারী পূজা -: বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে দেবী কুমারীকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।
১) এক বছরের কন্যা -- সন্ধ্যা
২) দুই বছরের কন্যা -- সরস্বতী
৩) তিন বছরের কন্যা -- ত্রিধামূর্তি
৪) চার বছরের কন্যা -- কালিকা
৫) পাঁচ বছরের কন্যা -- সুভগা
৬) ছয় বছরের কন্যা -- উমা
৭) সাত বছরের কন্যা -- মালিনী
৮) আট বছরের কন্যা - কুণ্ঠিকা
৯) নয় বছরের কন্যা -- কালসন্দর্ভা
১০) দশ বছরের কন্যা -- অপরাজিতা
১১) এগারো বছরের কন্যা - রুদ্রাণী
১২) বারো বছরের কন্যা -- ভৈরবী
১৩) তেরো বছরের কন্যা -- মহালক্ষ্মী
১৪) চৌদ্দ বছরের কন্যা - পীঠনায়িকা
১৫) পনেরো বছরের কন্যা -- ক্ষেত্রজ্ঞা
১৬) ষোলো বছরের কন্যা -- অন্নদা বা অম্বিকা
এই ষোড়শ মাতৃকা রূপে দেবী পূজিতা হন।